

আমেরিকায় গত মাসে একটা ঘটনা পুরো জাতিকে নাড়িয়ে দিল। জনপ্রিয় টক শো Jimmy Kimmel Live! হঠাৎ বন্ধ করে দিলো ABC/Disney।
কারণ? কিমেল চার্লি কার্ক হত্যাকাণ্ড নিয়ে কিছু তির্যক মন্তব্য করেছিলেন।
এই বন্ধ হওয়া দেখে অনেকেই বললেন—এটা তো সরাসরি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত।
একজন সাংবাদিক, নাম মাইক, তখন Change.org-এ একটা পিটিশন খুললেন।
কথা ছিল সোজা: “ABC ফ্যাসিবাদ আর বুলিং-এর কাছে মাথা নত করেছে।”
কি হলো জানেন?
কয়েক দিনের মধ্যে ৮০,০০০ মানুষ সাইন করলো।
Bloomberg আর MSN হেডলাইন করলো।
হাজার হাজার মানুষ সোশ্যাল মিডিয়ায় Disney সাবস্ক্রিপশন ক্যান্সেল করার স্ক্রিনশট শেয়ার করলো।
আরেক ধাপে উঠে গেলো আন্দোলন—হলিউডের তারকারাও পাশে দাঁড়ালেন। জেনিফার অ্যানিস্টন, সেলেনা গোমেজ, রবার্ট ডি নিরো, মেরিল স্ট্রিপ—সবাই খোলা চিঠিতে লিখলেন:
“আমাদের দেশের জন্য এটা এক অন্ধকার সময়।”
চাপে পড়ে Disney অনুষ্ঠানটা ফিরিয়ে আনলো।
আইন বিশেষজ্ঞরা পরিষ্কার করে বললেন—আমেরিকার সংবিধান ফ্রিডম অব স্পিচ রক্ষায় অটল।
কেবল কোনো কনটেন্ট ভালো না লাগলেই সরকারের পক্ষে কোনো নেটওয়ার্কের লাইসেন্স বাতিল করা সম্ভব নয়।
অনেক রাজনীতিবিদও সতর্ক করেছেন—এমন মন্তব্য অস্বস্তিকর হলেও, শেষ পর্যন্ত গণতন্ত্রে মানুষের কণ্ঠই সবচেয়ে বড় ভরসা।
বাংলাদেশে একই গল্প
এই লড়াই কেবল আমেরিকায় নয়।
বাংলাদেশেও আমরা দেখছি—২৫ ফেব্রুয়ারির নৃশংস দমনপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ায় গ্রামীণফোন ১৯ জন সাবেক কর্মীর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছে।
অভিযোগ? তারা নাকি “মানহানিকর পোস্ট” দিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
কিন্তু আসল সত্য হলো—ওরা কেবল তাদের ন্যায্য পাওনা নিয়ে কথা বলেছে।
সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে যে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অধিকার দেওয়া আছে, সেটাই এখন টার্গেট হচ্ছে।
আমাদের শেখার বিষয়:
জিমি কিমেলের গল্প যেমন দেখায়—একটা পিটিশন কিভাবে ৮০,০০০ মানুষকে একত্রিত করলো, আন্তর্জাতিক মিডিয়া নাড়া দিলো, বড় কর্পোরেশনকে নতি স্বীকার করালো—
তেমনি আমাদের আন্দোলনও প্রমাণ করবে, মানুষ একসাথে দাঁড়ালে কোনো শক্তি আমাদের চুপ করাতে পারবে না।
আমাদের ন্যায্য পাওনা আদায়ের লড়াই শুধু অর্থের জন্য নয়, এটা আমাদের কণ্ঠের স্বাধীনতার জন্যও।
কারণ মানুষের কণ্ঠই সবচেয়ে বড় শক্তি।