Petition updateJustice for Grameenphone Workers: Stop the Crackdown, Pay Our Rightful Dues!গ্রামীনফোনের প্রথম সেলস ম্যানেজার মাহবুব হোসেন ভাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান বনাম অমানবিক গ্রামীনফোন!
Anwar M HossainPhiladelphia, PA, United States
Dec 1, 2025
১৯৯৮ সালে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্থ্রনালয় এক আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নেয়! মোবাইল ফোন কোম্পানি গুলো কেবল ব্যাবসা করতে শুরু করেছে, টুক টুক করে গ্রাহক সংখ্যা বাড়ছে, তবুও মুল কমিউনিকেশন টা ছিল বিটিটিবি বা ল্যান্ডফোনের সাথে। মোবাইল তখন আসলেই মোবাইল ছিল, কলচার্জ অনেক বেশী হওয়ায় নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া কেউ কথা বলতনা। বরং মোবাইল থেকে কল দিয়ে ল্যান্ডফোন থেকে কলব্যাক করত, তারপর ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলা! ল্যান্ডফোনের কল চার্জ ছিল কলপ্রতি ২ টাকা। কাজেই উভয় পক্ষের তেমন কোন বায়বসায়িক লাভ হওয়াতো দূরের কথা বিনা কারণে নেটওয়ার্ক অকুপাই হয়ে থাকত ঘণ্টার পর ঘণ্টা! ফলে নেটওয়ার্ক কনজেশন, কলড্রপ সহ আরও নানা সমস্যায় জর্জরিত হতে থাকল জেনুইন কাস্টমার যাদের সত্যই দরকার মোবাইলে কথা বলা। সমাধান কি? আমাদের চিরায়ত আমলাতন্ত্র সমাধান বের করে ফেলল! মাথা ব্যাথায় মাথা কেটে ফেলায় একমাত্র সমাধান! মন্ত্রণালয় থেকে সিদ্ধান্ত নিল মোবাইল কোম্পানিগুলো আর কোন নতুন ফোন বিক্রি করতে পারবেনা যাতে ল্যান্ডফোনে কল করা যাবে! সদ্যজাত মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রির গলা টিপে মেরে ফেলার জোগাড়! বিটিটিবি তখন টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীন একটা প্রতিষ্ঠান। তাদের গ্রাহক সংখ্যা প্রায় সাড়ে সাতলাখ মানে বিশাল ব্যাপার! আর সবগুলো মোবাইল কোম্পানি মিলেও তখন গ্রাহক লাখ দুএকের বেশী হবে কিনা সন্দেহ। আর নতুন এই সিদ্ধান্ত ছিল হাঁটি হাঁটি পায়ে চলার চেষ্টা করা মোবাইল কোম্পানি গুলোর জন্য মৃত্যুদন্ডাদেশ প্রায়! তোলপাড় শুরু হয়ে গেল চারিদিকে। ফোন কোম্পানি গুলো মৃতপ্রায়, কোন ফোন বেচা কেনা নাই। দেশের অর্থনীতিতে ভাল ভূমিকা রাখার প্রতিশ্রুতি নিয়ে আসা ফোন কোম্পানিগুলো তখন মারাত্মক অস্তিত্ব সংকটে, পিছিয়ে থাকা দুএকটা কোম্পানি জনবল ছাঁটাই শুরু করল কসট কন্ট্রোলের জন্য! মানুষই সব প্রথম আক্রান্ত হয় কসট কন্ট্রোলের নামে। সবসময় তাই হয়ে আসছে। আজ যখন এই লেখা লিখছি তখন করোনা মহামারীতে মিলিওন মিলিওন মানুষ ছাঁটাইয়ের শিকার হচ্ছে সারা পৃথিবী জুড়েই! গ্রামীণফোন তখনও লোক ছাঁটাই শুরু করেনি, কিন্ত সবার মুখ শুকনা, কদিন আর কোম্পানি বিনা আয়ে কর্মীদের বসিয়ে বসিয়ে বেতন দিয়ে যাবে? ইনফো সেন্টারের জন সমাগম কমে এসেছে। সেলস সেন্টার বন্ধ প্রায়। আর চালু থাকা ফোন গুলো থেকেও রাজস্ব আসা বন্ধ প্রায়, কারণ ফোনের লাইফ সাইকেলের সবচেয়ে বেশী রেভিনিউ আসার সময় হোল প্রথম মাস, মানুষ তখন সবচেয়ে বেশী ইউজ করে তার ফোন কৌতূহলের কারণে, বিভিন্ন মানুষকে তাঁর ফোন নাম্বার জানানোর জন্য, এর পর এটা ধীরে ধীরে কমতে থাকে। কাজেই ফোন নিয়মিত বিক্রি হওয়াটা জরুরী এই লাইফ সাইকেলের জন্য। এখন বিক্রিই বন্ধ তো রেভিনিউ আসবে কোথা থেকে! আর মানুষ জন ল্যান্ডফোনে কল করে প্রথম তিন সেকেন্ডে বলে ফেলে কলব্যাক করতে কারণ তখন মোবাইল থেকে প্রথম তিন সেকেন্ড ছিল ফ্রি! কাজেই ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা! প্রসঙ্গত জানিয়ে রাখি, আরও কিছুদিন পরে আমি একটা প্রজেক্টের অংশ হিসেবে এই “প্রথম তিন সেকেন্ডে” ফ্রির উপর একটা স্টাডি করি। এখানে দেখি হাজার হাজার গ্রাহক খুবই ন্যূনতম বিল দেয় মাসে কিন্ত তাদের টোটাল আউটগইং কল নাম্বার পনের-বিশ হাজার বা তারও বেশী! টেকনিকাল ডিপার্টমেন্ট থেকে এই ধরনের নাম্বারের একটা কমপ্লিট লিস্ট পাওয়ার পরে দেখি হাজার হাজার নাম্বার এই তিন সেকেন্ড ফ্রি কলের ব্যাপারটা মিসইউজ করছে! এই লিস্ট থেকে র‍্যানডম কিছু নাম্বার সিলেক্ট করে তাদের সারভেলেন্সে রেখে ফলো করা শুরু করলাম তাদের কলিং ট্রেন্ড! তারপর দুএকজন কে ফোন দিলাম অফিসে আসার জন্য অনুরোধ করে। প্রথমদিন যে এলো তাঁর সাথে খুব আন্তরিক ভাবে কথা শুরু করলাম, একপর্যায়ে এই তিন সেকেন্ড ফ্রি কলের প্রসঙ্গ নিয়ে এলাম। উনি ব্যাখ্যা করে বুঝালেন কিভাবে এই কাজটা করে। প্রথম কলঃ “আমি X বলছি”। এন্ড দ্বিতীয় কলঃ “তুমি কেমন আছ”? এন্ড তৃতীয় কলঃ “বাসার সবাই কেমন”? এন্ড চতুর্থ কলঃ “তুমি কাল আসতে পারবা”? এন্ড পঞ্চম কলঃ “উমুক চাইনিজএ” এন্ড এভাবে শত শত কখনও হাজার কল হচ্ছে, কিন্ত সবগুলার ডিউরেশন তিন সেকেন্ড বা তাঁর চেয়ে কম ফলে ফোন কোম্পানির নেট ইনকাম আক্ষরিক অর্থেই “শূন্য” কিন্ত প্রতিটা কল জেনারেট করতে খরচ হচ্ছে তারমানে কোম্পানি এখানে লস করছে প্রতি কলে! সাইড এফেক্ট, হিউজ কল কনজেশন ও কল ড্রপ দুই টাউয়ারেই কন্টিনিউয়াস কল জেনারেশনের জন্য, অন্য গ্রাহকরা কল করতেই পারেনা থ্রি সেকেণ্ডারদের জন্য! ! কোম্পানির লাভ- নেগেটিভ! কাস্টমার অসন্তস্টি! এইরকম আরও কয়েকজন কে ইন্টারভিউ করলাম, একই ট্রেন্ড! তখন আমাদের ডিরেক্টর ছিলেন নায়লা চৌধুরী! রিপোর্ট কমপ্লিট করে রেকমেন্ডেশন সহ গেলাম নায়লা আপার কাছে, উনি অলমোস্ট বেরিয়ে যাচ্ছেন ম্যানেজমেন্ট মিটিং এ যোগ দিতে! উনি খুব সংক্ষেপে জানতে চাইলেন কি ব্যাপার। আমি পুরো ব্যাপারটা উনাকে বুঝিয়ে বললাম পাঁচ মিনিটেরও কম সময়ে, সমস্ত এভিডেন্স উনার হাতে দিলাম। উনি ধন্যবাদ দিয়ে লিফটে উঠলেন। প্রায় দুই ঘণ্টা পরে উনি মিটিং থেকে ফিরলেন হাসিমুখে। এসেই বাসায় চলে গেলেন। পরেরদিন খবরের কাগজে মাঝের পাতায় ছোট একটা বিজ্ঞপ্তি দেখে পিলে চমকে গেল, খুশীতে! “গ্রামীনফোনের ফ্রি তিন সেকেন্ডের অপশন আগামী দুইদিন পর থেকে বন্ধ করে দিতে যাচ্ছে বিশেষ কারনবসত! এইজন্য গ্রামীনফোন আন্তরিকভাবে দুঃখিত”! “দুইদিন” ছিল সরকারী বিধান, যে কোন চেঞ্জ ইমপ্লিমেন্ট করতে গ্রাহকদের মিনিমাম দুইদিন আগে অন্তত দুইটা জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে জানাতে হবে! যে দুইটা পত্রিকায় এই বিজ্ঞাপন দেয়া ছিল সেগুলি কেউ পড়ে বলে আমার জানা ছিলনা! ঠিক দুই দিন পর কল সেন্টারে হাজার হাজার কল! ফ্রি কলারদের মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়েছে! আর টেকনিকাল ডিপার্টমেন্টের রিপোর্ট, কল কনজেশনের পরিমাণ প্রায় শূন্যের কোঠায়! বাকি কোম্পানি গুলোও খুব দ্রুতই অনুসরণ করল গ্রামীনফোনকে! আমি ও প্রিয় সহকর্মী রুহুল এই প্রজেক্টে কাজ করেছিলাম! ফিরে আসি আগের প্রসঙ্গে, বিটিটিবি বন্ধ, মোবাইলের বিজনেস অলমোস্ট বন্ধ! সেলস ডিরেক্টর স্নোরে ডানিএলসন আর সেলস ম্যানেজার মাহবুব হোসেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা মিটিং করেন চিন্তিত মুখে, কোন সমাধান ছাড়াই! তারপর একদিন খড়কুটো ধরে বাঁচার চেষ্টার মত সিদ্ধান্ত হোল, মোবাইল টু মোবাইল সংযোগ বিক্রি শুরু হবে, নাম হবে জিপি টু জিপি! সবাই হাসতে হাসতে শেষ! কে কিনবে এই খেলনা ফোন, এতো ওয়াকিটকি! আমাদের নিজেদেরই বিশ্বাস হয়না তো কাস্টমার! টাকা দিয়ে ফোন কিনে কথা বলবে কার সাথে? তারও তো একটা মোবাইল থাকতে হবে! শেষ পর্যন্ত প্রথম একটা ক্যাম্পেইন এ মোবাইল ফোন সেটের দাম রাখা হোল প্রায় শূন্যের কাছে, যাতে গ্রাহক অন্তত ফোনসেটের জন্য হলেও ফোন কিনে। শুরু হল স্রোতের বিরুদ্ধে সাঁতার! খুবই স্লো রেসপন্স! জিপির কর্মীরা এগিয়ে এলাম, আমরা নিজেরা কিনলাম পরিবারের জন্য বা বন্ধুদের বললাম কিনার জন্য! ধীরে ধীরে মানুষজন কিনতে শুরু করল, কারণ বিকল্প কিছুতো ছিলোনা কোথাও! স্ট্যাটাসের জন্য হলেও তো একটা ফোন লাগে! হালে পানি পেল জিপি টু জিপি, আবার বেচা কেনা শুরু হোল সেলস সেন্টারে। আমার বই জার্নি ফ্রম গ্রামীনফোন টু আমাজন থেকে নেয়া —————————————————- সেদিন মাহবুব ভাইয়ের দূরদর্শী পরিকল্পনায় গ্রামীনফোন প্রাণ ফিরে পেল, আর সেই গ্রামীনফোন আজ এক বিশাল মহীরুহ! কিন্ত কোম্পানী গ্রামীনফোন ভুলে গেছে সেদিনের মাহবুব হোসেনকে! মাহবুব ভাই সম্প্রতি ইন্তেকাল করেছেন! আল্লাহ উনাকে জান্নাত নসিব করুন! কিন্ত গ্রামীনফোন কি একবারও স্মরণ করেছে তাদের জন্মলগ্নের সেলস ম্যানেজারকে? সিইও Yasir Azman তাঁর ব্যাক্তিগত প্রোফাইলে একটা শোকবার্তা দিয়েছেন! কিন্ত গ্রামীনফোন? কোনদিন মানবিক হতে শিখলোনা এই দানব কোম্পানিটা! আফসোস! https://www.facebook.com/share/p/1BfcApW8hn/?mibextid=wwXIfr Grameenphone #Telenor #grameentelecom #JusticeForGPWorkers
Copy link
WhatsApp
Facebook
Nextdoor
Email
X