Petition updateJustice for Grameenphone Workers: Stop the Crackdown, Pay Our Rightful Dues!ইসরায়েলি পেগাসাস, ভারতীয় CXO ও গ্রামীণফোন: বাংলাদেশের ডিজিটাল স্বাধীনতার উপর সরাসরি আক্রমণ!
Anwar M HossainPhiladelphia, PA, United States
Aug 24, 2025
🛰️ পেগাসাস কী? পেগাসাস হলো ইসরায়েলি কোম্পানি NSO Group-এর তৈরি এক অত্যাধুনিক স্পাইওয়্যার। এটি একবার কোনো স্মার্টফোনে প্রবেশ করলে ব্যবহারকারী কিছুই বুঝতে পারেন না, কিন্তু ভেতরে ভেতরে সেই ফোন হয়ে যায় এক গোয়েন্দা যন্ত্র। 🔹 হোয়াটসঅ্যাপ, সিগন্যাল, টেলিগ্রাম—সব এনক্রিপ্টেড ম্যাসেজ পড়ে ফেলতে পারে। 🔹 ফোনের মাইক্রোফোন ও ক্যামেরা চালু করে গোপনে রেকর্ড করতে পারে। 🔹 GPS লোকেশন ট্র্যাক করে প্রতিটি পদক্ষেপ নজরে রাখতে পারে। 🔹 ফাইল, ছবি, ভিডিও নিঃশব্দে কপি হয়ে যায়। 🔹 চাইলে নিজেই মুছে গিয়ে কোনো প্রমাণই রাখে না। হাসিনা সরকার এই মারাত্মক সার্ভেলেন্স সিস্টেম কেনে নিজের দেশবাসীর উপর নজরদারীর জন্য! (এখন মাঝে মাঝে হাসিনার যেইসব রেকর্ডেড মেসেজ আমরা শুনি সেটাও এই পেগাসাসের বদৌলতে 🧐) ⸻ ⚙️ পেগাসাস কীভাবে কাজ করে? • Zero-click attack: একটি হোয়াটসঅ্যাপ কল বা iMessage পেলেই ফোন আক্রান্ত হতে পারে। • One-click attack: প্রতারণামূলক লিংকে ক্লিক করলেই সংক্রমণ ঘটে। • Network injection: মোবাইল ডেটা ব্রাউজিংয়ের সময় টেলিকম নেটওয়ার্কেই ট্রাফিক পরিবর্তন করে পেগাসাস ঢুকিয়ে দেওয়া যায়। (সরাসরি টেলিফোন কোম্পানী এই কাজ করে) অর্থাৎ, এই স্পাইওয়্যারকে কার্যকর করতে হলে টেলিকম নেটওয়ার্কই হলো প্রধান “হাইওয়ে।” ⸻ 📡 গ্রামীণফোনে ভারতীয় CXO —কেন ঝুঁকি? বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অপারেটর গ্রামীণফোন (GP)। কোটি কোটি মানুষ, রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তা, এমনকি নীতিনির্ধারকরাও এই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করেন। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, GP-তে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদে ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন: • CTO (Chief Technology Officer) → নেটওয়ার্ক অবকাঠামো ও lawful intercept নিয়ন্ত্রণে। • CIO (Chief Information Officer) → গ্রাহকের ডেটা, সাইবার আর্কিটেকচার ও ডেটাবেস নিয়ন্ত্রণে। • CPO (Chief Procurement Officer) → কোন ভেন্ডর থেকে নেটওয়ার্ক সরঞ্জাম কেনা হবে তার নিয়ন্ত্রণে। 👉 এই তিনটি পদ একসাথে ভারতীয় নাগরিকদের হাতে থাকলে— • CTO → পেগাসাস ঢোকানোর পথ তৈরি করতে পারে। • CIO → গ্রাহকের কল, লোকেশন, ব্যক্তিগত তথ্য বিদেশে পাচার করতে পারে। (পড়ুন ভারতে) • CPO → প্রোকিউরমেন্টের মাধ্যমে ভেন্ডরের ব্যাকডোর ঢুকতে পারে। অর্থাৎ, ডেলিভারি + ডেটা + সাপ্লাই চেইন—সব একসাথে বিদেশি প্রভাবের আওতায়। ⸻ 🔎 কেন উচ্চপর্যায়ের কথোপকথন ফাঁস হচ্ছে? সম্প্রতি দেখা গেছে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, নেতা, এমনকি প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত ফোনালাপ জনসমক্ষে চলে আসছে। সাধারণ মানুষের পক্ষে এটা সম্ভব নয়। কীভাবে হলো? • Lawful Intercept সিস্টেম অপব্যবহার করে কল রেকর্ডিং করা সম্ভব। • Pegasus ঢুকিয়ে ফোন থেকেই প্রতিটি আলাপ টেনে নেওয়া যায়। • আর যদি টেলিকম কোম্পানির ভেতরে বিদেশি প্রভাব থাকে, তবে সেটা আরও সহজ হয়ে যায়। ⸻ ⚠️ ইন্টেরিম সরকারের জন্য হুমকি আজকের সরকার হয়তো ভাবছে —এটা শুধু বিরোধী বা সাংবাদিকদের জন্য হুমকি। কিন্তু Pegasus এভাবে কাজ করে না। 👉 এর আওতায় মন্ত্রী, সচিব, নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তা সহ দেশের প্রতিটি মানুষ —সবাই সমানভাবে আসতে পারেন। 👉 কোনো গোপন বৈঠক, নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত, এমনকি কূটনৈতিক আলাপও বিদেশি শত্রু সার্ভারে পৌঁছে যেতে পারে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে। (পড়ুন ভারত) অর্থাৎ—আজ যারা ক্ষমতায় আছেন, তারাও নিরাপদ নন। ⸻ 📜 হুইসেলব্লোয়ার ও অতীতের ঘটনা একজন হুইসেলব্লোয়ার দাবি করেছেন—GP-কে Pegasus-এর সাথে যুক্ত করার একটি প্রজেক্টে তিনি সরাসরি কাজ করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, • সেই প্রজেক্টে একজন প্রভাবশালী জেনারেলকে (জেনারেল জিয়া) GP হাউসে নিয়মিত দেখা গেছে, • GP-র CEO ইয়াসির আজমান ও অন্যান্য CXO-রা এতে সরাসরি সহযোগিতা করেছেন। 👉 যদি এই দাবি সত্য হয়, তাহলে প্রশ্ন আসে—টেলিনর (নরওয়ের মালিক কোম্পানি) কি এ বিষয়ে জানতো? নাকি তারা চোখ বন্ধ করে রেখেছিল? অতীতের নজির: ২০০৪–২০০৬ (সঠিক সালটা মনে নেই, কারো মনে থাকলে কমেন্টে জানান) সালের দিকে গ্রামীণফোনে একজন ভারতীয় নাগরিক CTO হিসেবে ছিলেন। সে সময়কার সরকার তাকে একবস্ত্রে দেশ ছাড়তে বাধ্য করে, কারণ তিনি ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে কাজ করছেন—এমন অভিযোগ উঠেছিল। 👉 এর মানে, GP-তে ভারতীয় নাগরিক CTO/CXO থাকার ঝুঁকি নতুন কিছু নয়, বরং বহুদিনের। ⸻ 🛡️ Telenor-এর দায়বদ্ধতা • যদি টেলিনর জানে, তবে এটি সরাসরি মানবাধিকার লঙ্ঘন ও আন্তর্জাতিক কেলেঙ্কারি। • যদি না জানে, তবে তাদের গভর্ন্যান্স ব্যর্থ হয়েছে, কারণ শীর্ষ পর্যায়ে ভারতীয় নাগরিক বসানোর মাধ্যমে তারা বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। নরওয়ে মানবাধিকার, গোপনীয়তা ও গণতন্ত্রের কথা বলে—কিন্তু তাদের মালিকানাধীন কোম্পানির মাধ্যমে যদি এমন নজরদারি চলে, তবে সেটা আন্তর্জাতিক দ্বিচারিতা হয়ে দাঁড়াবে। ⸻ 🔎 বাংলাদেশের জন্য ঝুঁকি 1. জাতীয় নিরাপত্তা: মন্ত্রী, সচিব, সামরিক বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী—কেউ নিরাপদ নয়। 2. সার্বভৌমত্ব: ভারতীয় নাগরিক CXO-দের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় তথ্য বিদেশে (পড়ুন ভারতে) চলে যেতে পারে। (আসলে যাচ্ছে) 3. রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা: কথোপকথন ফাঁস, ব্ল্যাকমেইল, রাজনৈতিক নেতাদের দুর্বল করা—সব সম্ভব। (আসলেই এটা হচ্ছে, রাজনীতিকদের কথা বার্তাতেই পরিষ্কার তারা পথ হারিয়েছে) পেগাসাস যাদের নিয়ন্ত্রনে তারা চাইলেই সকলকে পুতুল নাচ নাচাতে পারে! 🎭 ⸻ 📝 উপসংহার Pegasus একটি নিরীহ সফটওয়্যার নয়—এটা হলো ডিজিটাল সার্বভৌমত্বের অগ্নিপরীক্ষা। • GP-র ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায় —২০০৪/০৫/০৬ সালেও ভারতীয় CTO-র বিরুদ্ধে সন্দেহ উঠেছিল এবং তৎকালীন সরকার সৎ সাহস দেখিয়ে তাকে দেশ থেকে বের করে দেয়! • আজ আবার CTO, CIO, CPO—সবচেয়ে শক্তিশালী তিন পদ ভারতীয় নাগরিকদের হাতে। • যদি Pegasus-এর মতো নজরদারি টুল এর সাথে যুক্ত হয়, তবে বাংলাদেশের মানুষ তো বটেই, সরকারের শীর্ষ পর্যায়ও ২৪/৭ নজরদারিতে থাকতে পারে। (আসলে আছে) 👉 তাই আজকের প্রশ্ন: টেলিনর গ্রুপ কি এ বিষয়ে অন্ধ, নাকি নীরব অংশীদার? ❓ বাংলাদেশের জন্য মূল প্রশ্ন আজ যখন দেশের সবচেয়ে বড় টেলিকম কোম্পানি গ্রামীণফোনে CTO, CIO, আর CPO—সবচেয়ে সংবেদনশীল তিনটি পদ ভারতীয় নাগরিকদের হাতে, এবং পেগাসাসের মতো নজরদারি টুল ব্যবহার হওয়ার আশঙ্কা বারবার সামনে আসছে, 👉 তখন সরকার কি নিশ্চিত যে তাদের নিজস্ব মন্ত্রী, সচিব, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী—সবাই নিরাপদ? 👉 আর সাধারণ মানুষ—যারা প্রতিদিন GP সিম ব্যবহার করছেন—তাদের ব্যক্তিগত জীবন, আলাপ, ডেটা কি আসলেই সুরক্ষিত? আর আমাদের সার্বভৌমত্ব? ভাল থাকবেন সবাই! আল্লাহ আমাদের সহায় হোন!
Copy link
WhatsApp
Facebook
Nextdoor
Email
X