

বাচ্চা একটা বিড়াল —কারও ক্ষতি করেনি। তবু তাকে রড দিয়ে পেটানো হলো।
মাত্র ৫ মাস বয়স। ছোট্ট সাদা একটা প্রাণ। ভুল করে ঢুকে পড়েছিল এক ফ্ল্যাটে—খাদ্যের আশায়, ভালোবাসার আশায়, হয়তো একটু আদরের আশায়।
কিন্তু সে পেল কী?
লোহার রডে পেটানো, চিৎকার, রক্ত, ফুলে যাওয়া শরীর, ভাঙা হাড়।
সে তো কিছু বলতে পারে না। আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও নেই।
তবু তার আর্তনাদ কাঁদিয়েছে হাজারো মানুষকে।
এই নির্মমতা চালিয়েছেন একজন সিনিয়র কর্পোরেট অফিসার—কাজী হাসান মাহমুদ, ডেপুটি ডিরেক্টর, গ্রামীণফোন, এবং তার স্ত্রী ফারহানা খানম, অফিসার, অরিস্টো ফার্মা।
লোকেশন: বসুন্ধরা R/A, ঢাকা।
দেশজুড়ে রিয়্যাকশন।
Grameenphone থেকে স্টেটমেন্ট আসে—“আমরা সব প্রাণীর প্রতি সহানুভূতিশীল।”
তারা এটিকে বলে—“একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক বিষয়।”
ঠিকই বলেছেন—মানবিকতা সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ।
⸻
তবে চলুন, এবার আরেকটা মানবিকতার গল্প শুনি—যেটা আপনি ভুলে গেছেন।
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫।
একদল মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে রাস্তায় নামেন—তাদের প্রাপ্য ৫% প্রফিট শেয়ারের দাবিতে।
তারা কেউ ক্রিমিনাল ছিলেন না। ছিলেন প্রাক্তন গ্রামীণফোন কর্মী—যাঁদের শ্রমেই এই কোম্পানির ভিত্তি তৈরি হয়েছে।
কিন্তু তাদের জন্য অপেক্ষা করছিল লাঠিচার্জ, জল কামান, গালি, লাথি, টানা-হ্যাচড়া।
নারী-পুরুষ কাউকে ছাড় দেওয়া হয়নি।
কেউ মাথায় আঘাত পেয়েছেন, কেউ এখনো আতঙ্ক আর অপমানে কাঁপছেন।
২৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হয়েছে।
নিজেদের রাইটস চাওয়া এখন দেশে যেন অপরাধ।
আর গ্রামীণফোন?
একটিও শব্দ না। না কোনো দুঃখপ্রকাশ, না কোনো স্টেটমেন্ট।
⸻
তাহলে বলুন—আপনার কমপ্যাশন কি শুধু বিড়ালের জন্য?
যাদের ঘামে আপনি বড় হয়েছেন, তাদের ব্যথা আপনাকে স্পর্শ করে না?
এটা শুধু হিপোক্রিসি না—এটা সিলেক্টিভ হিউম্যানিটি।
ক্যামেরার সামনে কোমল মুখ, আর বাস্তবে নিষ্ঠুর নীরবতা।
আমরা বলছি—
বিড়ালের প্রতি নিষ্ঠুরতার বিচার চাই।
তবে মানুষের প্রতি বর্বরতার জন্যও সেই একই বিচারের দাবি আমাদের।
হিউম্যানিটি ভাগ হয় না। জাস্টিস নির্বাচন করে না।
আপনি যদি সত্যিই কেয়ার করেন,
আপনাকে দাঁড়াতে হবে প্রাণীর পক্ষেও, মানুষের পক্ষেও।
নাহলে আপনার নীরবতাই বলে দেবে—কে আপনার কাছে মূল্যবান, আর কে বাতিলযোগ্য।
⸻
আর এই নীরবতার পুরস্কার?
হ্যাঁ, এই “ক্র্যাকডাউন ম্যানেজমেন্ট”-এর জন্য গ্রামীণফোন টিমকে Telenor Security Award 2025 দেয়া হয়েছে।
সোনালি ফ্রেমে বাঁধানো সার্টিফিকেট।
যেখানে ২৯ জন মানুষ আজো কোর্টের বারান্দায়,
কেউ এখনো ট্রমার মধ্যে—
তাদের জন্য কিছুই না।
আর যারা “ম্যানেজ” করেছে এই ব্রুটালিটি, তারা পাচ্ছে অ্যাওয়ার্ড!
এই যদি হয় ন্যায়, তাহলে অন্যায়ের সংজ্ঞা কী?
কারো জন্য জাস্টিস,
কারো জন্য জেল,
আর কারো জন্য—পদক!
———————
আনোয়ার
সিটি অফ ব্রাদারলি লাভ (Philadelphia)