বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের আইসিসি থেকে সকল প্রকার সদস্যপদ বাতিল চাই

The Issue

এদের নিয়ে আর কী লেখা যায়? কিছুই তো ওদের ওপর প্রভাব ফেলতে পারছে না! বাংলাদেশের ভক্ত হিসেবে ক্রিকেট খেলা দেখার সময় আনন্দের মুহূর্ত থেকে দুঃখের মুহূর্তের সংখ্যা অনেক বেশি, এই বিষয়ে আশা করি সবাই একমত হবেন। আনন্দের মুহূর্ত গুলো বড় দলের সাথে খুব কম সময়ই এসেছে।

৩৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলছে। কিন্তু বিশ্বকাপের মত বড় মঞ্চে এখনও বড় কোনো অর্জন নেই। আফগানিস্তান ওদের ওনেক পরে খেলা শুরু করেও এই বছরের টি-২০ বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে উঠে গেলো। আমরা এখনও সুপার-৮ নিয়ে বসে আছি। ওহ! আমরা নাকি ১৭ বছর পর সুপার-৮ এ উঠেছি! ভাবা যায়? এতো বড় বাঁধিয়ে রাখার মতো অর্জন! 

আমেরিকা তো সেদিন ক্রিকেট খেলা শুরু করে ওদের জীবনের প্রথম বিশ্বকাপের আসরেই সুপার-৮ এ উঠে গেলো! মানে বুঝতে পারছেন আমরা কতটা পিছিয়ে আছি? শুধুমাত্র মাঝে মাঝে ঝড়ে বক মরে যায় আর নিজেদের বিধ্বস্ত অবস্থাও ঢেকে যায়।

এবারের বিশ্বকাপ ম্যাচগুলো যারা দেখেছেন, তারা বুঝতে পারবেন কেনো এইবারের ব্যর্থতা নিয়ে সবাই কথা বলছে। বোলাররা আমি মনে করি ওদের সর্বচ্চোটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, শেষ ম্যাচ পর্যন্ত। কিন্তু ব্যাটসম্যানরা? ওদের দেখে কি কোনো পর্যায়ে মনে হয়েছে ওরা বিশ্বকাপ খেলতে গেছে? গ্রুপ পর্বে বোলিং পিচে বেশিরভাগ খেলা হয়েছে মানছি। কিন্তু তাই বলে কি শান্ত, লিটন, তানজিদ তামিম ওদের সামান্যতম চেষ্টা করা উচিত ছিল না রান করার? ওপেনাররা তো রীতিমত ব্যর্থতার দিক দিয়ে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন! সাকিব নেদারল্যান্ডস এর বিপক্ষে রান পেলেও অন্ন্যান্য ম্যাচে উল্লেখযোগ্য কিছুই করতে পারেন নি। এভাবে বোলারদের জন্য সুপার-৮ এর দেখা পেয়ে গেলেন উনারা।

কোচ হাতুরুসিংহ নাকি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সুপার-৮ এ উঠা উনাদের লক্ষ্য ছিল! ভাবা যায়? যে দলের কোচ এই মনোভাব পোষণ করে ওই দলের মানুষের কাছ থেকে ভালো কিছু আশা করাটাও অবশ্য বোকামি। মায়ের দোয়া অধিনায়ককে নিয়ে তো যাই বলবো কম পরে যাবে। মাথাই যখন ঠিক থাকে না বাকিকিছু ঠিক থাকবে ভাবাটাই আমাদের ভুল।

সুপার-৮ এ অস্ট্রেলিয়ার সাথে প্রথম ম্যাচ। দুর্ভাগ্যবশত বাংলাদেশের অনেক ভক্তরাই ভোর সাড়ে ছয়টায় উঠে খেলা দেখেছেন। মনে আশা ছিল অনেক। কিন্তু সেই আশা বাংলাদেশ দল কখনই বা পূরণ করতে পেরেছে?

দ্বিতীয় ম্যাচ ভারতের সাথে। ১৯৭ রানের টার্গেট ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু খেলার মধ্যে কখনই মনে হয় নি ওরা ১৯৭ রান করার জন্য খেলছে! ডট বল, ১ রানের ভিড়ে টি-২০ খেলাকেই শরমে পড়তে হয়েছে উল্টো! ১৪৬ করেন উনারা মাত্র! শান্ত আর রিশাদের ইনিংস ছাড়া বাকিগুলোকে আসলে টি-২০ খেলার ইনিংস তেমন বলা যায় না! এতো বড় রান তাড়া করতে গিয়ে কিভাবে খেলতে হয় তা জানতে আর কতো বছর লাগবে বাংলাদেশের?

এই ম্যাচ পরে তো আর সেমির আশা করাও ভুল! সেই ভুলটাই অস্ট্রেলিয়া ভারতের সাথে হারার পর বাংলাদেশের দর্শকরা করেছিল। সমীকরণ তৈরি করেছিল, আশা রাখছিল মনে যে হয়তোবা এইবার কিছু একটা হবে! বাংলাদেশ পারবে!

কিন্তু কিসের কি! ওই যে বললাম, দর্শক কী ভাবে তার ধার বাংলাদেশ ক্রিকেট ধারে না! ওই আগের মতোই হার কপালে ছিল। লিটন দাসকে শেষ বল পর্যন্ত মাঠে দেখা গেলেও উনার সতীর্থরা আগ্রহী ছিলেন না। 

এমনকি আউট হওয়ার পরেও অনেক খেলোয়াড়ের মধ্যে কোনো অনুশোচনাও দেখা যায় নি। দেখা গিয়েছে মন খুলে হাসতে! 

এসব দেখে স্বাভাবিক ভাবেই সমর্থকদের মনে প্রশ্ন জেগেছে, উনারা কী খেলতে গিয়েছিলেন? নাকি ছুটি কাটাতে?

খেলেছেন উনারা ঠিকই, কিন্তু দর্শকদের নিয়ে! আমরা দিনের পর দিন উনাদের এইরকম বাজে পারফরমেন্স দেখেও সাপোর্ট করে যাই, ভাবি ওরা পারবে। ওদের জন্য মানুষের সাথে অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পরেন। ঘুম, পড়াশোনা বাদ দিয়েও অনেকে ওদের খেলা দেখে! কিন্তু এর প্রতিদান কবে পাবো আমরা?

পুরো বাংলাদেশ টিমের মধ্যেই কোচ, কোচিং স্টাফ, খেলোয়াড়, সভাপতি সহ আমুল পরিবর্তনের দরকার। পরিবর্তন করুন না হলে ক্রিকেট খেলা বন্ধ করুন। বারবার নিজেদের সাথে সাথে দেশের, দেশের মানুষের সম্মান নিয়ে খেলবেন না। আমরা ক্রিকেট প্রেমী। সুন্দর ক্রিকেট উপহার দিতে না পারলে, না খেলাটাই শ্রেয় হবে বলে আমরা মনে করি। 

 

 

2

The Issue

এদের নিয়ে আর কী লেখা যায়? কিছুই তো ওদের ওপর প্রভাব ফেলতে পারছে না! বাংলাদেশের ভক্ত হিসেবে ক্রিকেট খেলা দেখার সময় আনন্দের মুহূর্ত থেকে দুঃখের মুহূর্তের সংখ্যা অনেক বেশি, এই বিষয়ে আশা করি সবাই একমত হবেন। আনন্দের মুহূর্ত গুলো বড় দলের সাথে খুব কম সময়ই এসেছে।

৩৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলছে। কিন্তু বিশ্বকাপের মত বড় মঞ্চে এখনও বড় কোনো অর্জন নেই। আফগানিস্তান ওদের ওনেক পরে খেলা শুরু করেও এই বছরের টি-২০ বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে উঠে গেলো। আমরা এখনও সুপার-৮ নিয়ে বসে আছি। ওহ! আমরা নাকি ১৭ বছর পর সুপার-৮ এ উঠেছি! ভাবা যায়? এতো বড় বাঁধিয়ে রাখার মতো অর্জন! 

আমেরিকা তো সেদিন ক্রিকেট খেলা শুরু করে ওদের জীবনের প্রথম বিশ্বকাপের আসরেই সুপার-৮ এ উঠে গেলো! মানে বুঝতে পারছেন আমরা কতটা পিছিয়ে আছি? শুধুমাত্র মাঝে মাঝে ঝড়ে বক মরে যায় আর নিজেদের বিধ্বস্ত অবস্থাও ঢেকে যায়।

এবারের বিশ্বকাপ ম্যাচগুলো যারা দেখেছেন, তারা বুঝতে পারবেন কেনো এইবারের ব্যর্থতা নিয়ে সবাই কথা বলছে। বোলাররা আমি মনে করি ওদের সর্বচ্চোটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, শেষ ম্যাচ পর্যন্ত। কিন্তু ব্যাটসম্যানরা? ওদের দেখে কি কোনো পর্যায়ে মনে হয়েছে ওরা বিশ্বকাপ খেলতে গেছে? গ্রুপ পর্বে বোলিং পিচে বেশিরভাগ খেলা হয়েছে মানছি। কিন্তু তাই বলে কি শান্ত, লিটন, তানজিদ তামিম ওদের সামান্যতম চেষ্টা করা উচিত ছিল না রান করার? ওপেনাররা তো রীতিমত ব্যর্থতার দিক দিয়ে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন! সাকিব নেদারল্যান্ডস এর বিপক্ষে রান পেলেও অন্ন্যান্য ম্যাচে উল্লেখযোগ্য কিছুই করতে পারেন নি। এভাবে বোলারদের জন্য সুপার-৮ এর দেখা পেয়ে গেলেন উনারা।

কোচ হাতুরুসিংহ নাকি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সুপার-৮ এ উঠা উনাদের লক্ষ্য ছিল! ভাবা যায়? যে দলের কোচ এই মনোভাব পোষণ করে ওই দলের মানুষের কাছ থেকে ভালো কিছু আশা করাটাও অবশ্য বোকামি। মায়ের দোয়া অধিনায়ককে নিয়ে তো যাই বলবো কম পরে যাবে। মাথাই যখন ঠিক থাকে না বাকিকিছু ঠিক থাকবে ভাবাটাই আমাদের ভুল।

সুপার-৮ এ অস্ট্রেলিয়ার সাথে প্রথম ম্যাচ। দুর্ভাগ্যবশত বাংলাদেশের অনেক ভক্তরাই ভোর সাড়ে ছয়টায় উঠে খেলা দেখেছেন। মনে আশা ছিল অনেক। কিন্তু সেই আশা বাংলাদেশ দল কখনই বা পূরণ করতে পেরেছে?

দ্বিতীয় ম্যাচ ভারতের সাথে। ১৯৭ রানের টার্গেট ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু খেলার মধ্যে কখনই মনে হয় নি ওরা ১৯৭ রান করার জন্য খেলছে! ডট বল, ১ রানের ভিড়ে টি-২০ খেলাকেই শরমে পড়তে হয়েছে উল্টো! ১৪৬ করেন উনারা মাত্র! শান্ত আর রিশাদের ইনিংস ছাড়া বাকিগুলোকে আসলে টি-২০ খেলার ইনিংস তেমন বলা যায় না! এতো বড় রান তাড়া করতে গিয়ে কিভাবে খেলতে হয় তা জানতে আর কতো বছর লাগবে বাংলাদেশের?

এই ম্যাচ পরে তো আর সেমির আশা করাও ভুল! সেই ভুলটাই অস্ট্রেলিয়া ভারতের সাথে হারার পর বাংলাদেশের দর্শকরা করেছিল। সমীকরণ তৈরি করেছিল, আশা রাখছিল মনে যে হয়তোবা এইবার কিছু একটা হবে! বাংলাদেশ পারবে!

কিন্তু কিসের কি! ওই যে বললাম, দর্শক কী ভাবে তার ধার বাংলাদেশ ক্রিকেট ধারে না! ওই আগের মতোই হার কপালে ছিল। লিটন দাসকে শেষ বল পর্যন্ত মাঠে দেখা গেলেও উনার সতীর্থরা আগ্রহী ছিলেন না। 

এমনকি আউট হওয়ার পরেও অনেক খেলোয়াড়ের মধ্যে কোনো অনুশোচনাও দেখা যায় নি। দেখা গিয়েছে মন খুলে হাসতে! 

এসব দেখে স্বাভাবিক ভাবেই সমর্থকদের মনে প্রশ্ন জেগেছে, উনারা কী খেলতে গিয়েছিলেন? নাকি ছুটি কাটাতে?

খেলেছেন উনারা ঠিকই, কিন্তু দর্শকদের নিয়ে! আমরা দিনের পর দিন উনাদের এইরকম বাজে পারফরমেন্স দেখেও সাপোর্ট করে যাই, ভাবি ওরা পারবে। ওদের জন্য মানুষের সাথে অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পরেন। ঘুম, পড়াশোনা বাদ দিয়েও অনেকে ওদের খেলা দেখে! কিন্তু এর প্রতিদান কবে পাবো আমরা?

পুরো বাংলাদেশ টিমের মধ্যেই কোচ, কোচিং স্টাফ, খেলোয়াড়, সভাপতি সহ আমুল পরিবর্তনের দরকার। পরিবর্তন করুন না হলে ক্রিকেট খেলা বন্ধ করুন। বারবার নিজেদের সাথে সাথে দেশের, দেশের মানুষের সম্মান নিয়ে খেলবেন না। আমরা ক্রিকেট প্রেমী। সুন্দর ক্রিকেট উপহার দিতে না পারলে, না খেলাটাই শ্রেয় হবে বলে আমরা মনে করি। 

 

 

Support now

2


Petition updates